বাংলা ফন্ট সমস্যা? ডাউনলোড ফন্ট English
সূচনা ইন্টারনেট ব্যাংকিং শেয়ার ম্যানেজমেন্ট পোর্টাল শিডিউল অব চার্জেস ওয়েবমেইল
ব্র্যাক ব্যাংক সম্পর্কে জানুন
কোম্পানি প্রোফাইল
কর্পোরেট ভিশন, মিশন, মূল্যবোধসমূহ
অর্জন
চেয়ারম্যানের বাণী
শেয়ারহোল্ডিং অবকাঠামো
পরিচালনা পর্ষদ
ব্যবস্থাপনা কমিটি
রিপোর্ট এবং মূল্যায়নসমুহ
বার্ষিক প্রতিবেদন
আর্থিক বিবরন
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ নীতিমালা
কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা
প্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক দায়বদ্ধতা সংক্রান্ত নীতিমালা “গ্রিন ব্যাংকিং”
সি এস আর পদক্ষেপসমূহ
সি এস আর সংক্রান্ত প্রস্তাব জমা করুন
মিডিয়া কর্ণার
সাম্প্রতিক প্রেস রিলিজ
সাম্প্রতিক টিভিসি ও এডভার্টাইসমেন্ট
ই-নিউজলেটার
হোম » ব্র্যাক ব্যাংক সম্পর্কে জানুন » কোম্পানী প্রোফাইল » চেয়ারম্যানের বাণী
প্রিয় শেয়ারহোল্ডারবৃন্দ,

আজ আপনাদের সকলকে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের ১১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় স্বাগত জানাতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আপনাদের অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার মাধ্যমে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডকে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আমি শুরুতেই আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড যাত্রা শুরু করার পর থেকেই সম্মানিত গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও সুমন্নত রাখা এবং ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধি অর্জনের মহৎ উদ্দেশ্যে নানান পদক্ষেপ নিয়ে আসছে। কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্বশীলতাকে (সিএসআর) ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের সকল কার্যক্রমের ডিএনএর সঙ্গে সমন্বিত করা হয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংক ‘ট্রিপল বটম লাইন’ এজেন্ডা অনুযায়ী পরিচালিত ব্যাংক যেখানে প্রতিষ্ঠানের মুনাফা অর্জন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা পাশাপাশিই চলে। যা দারিদ্র্য মুক্ত ও সমুজ্জ্বল এক বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদান রাখবে বলে আমরা আশা করি।

বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানগুলো (এস.এম.ই) বড় বড় কোম্পানিগুলোর মতো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কাছ থেকে সমানভাবে অর্থায়ন সুবিধা পায় না। কিন' বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন ও বিশেষ করে সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ত্বরান্বিতকরণে এস.এম.ই খাতের ভূমিকা ও অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্র্যাক ব্যাংকের সূচনালগ্ন ২০০১ সাল থেকেই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প-ব্যবসাকে গতিশীল করে তোলার লক্ষ্যে একটি সুস্পষ্ট রূপকল্প অনুযায়ী এই খাতে অর্থায়ন সুবিধা দিয়ে ক্যাটালিস্টের ভূমিকায় অবতীর্ণ রয়েছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ে দেওয়া ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের অর্থায়ন সুবিধা বর্তমানে সারা দেশব্যাপী বিসত্মৃত রয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংক শুধু দেশের এস.এম.ই খাতে অর্থায়নের পথিকৃৎই নয়, বরং এখনো এই ব্যাংক এক্ষেত্রে প্রথম স্থানটি ধরে রেখেছে। ২০০৯ সালে আমরা এককভাবে ৬৭.০৪৭ ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এস.এম.ই) উদ্যোক্তার মধ্যে ৩২,১৮৮.২৬ মিলিয়ন বা ৩ হাজার ২১৮ কোটি ৮২ লাখ ৬০ হাজার টাকা বিতরণ করেছি। একই বছরে আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ২৯টি এসএমই সার্ভিস সেন্টার বা সেবাকেন্দ্রও খুলেছি। বর্তমান আমরা সারাদেশে আমাদের ৫৯টি এস.এম.ই সার্ভিস সেন্টার ও ৪২৪টি এস.এম.ই ইউনিট অফিস নিয়ে একটি শক্তিশালী অবস্থান গড়তে সক্ষম হয়েছি।

আপনাদের এই ব্যাংক ক্রমাগতভাবে ব্যবসা বাড়ানোর মাধ্যমে আমাদের মূল্যবান গ্রাহকদের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে সচেষ্ট রয়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা এবং প্রতিকূল পরিবেশ-পরিস্থিতি সত্ত্বেও আপনাদের ব্যাংক বেশ ভালো করেছে। ২০০৯ সালে আমরা নতুন ১৩টি শাখা ও ৫৭টি এটিএম বুথ উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশজুড়ে আমাদের ব্যাংকের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করেছি। এরফলে বর্তমানে সারাদেশে আমাদের মোট শাখা ১৪৪টিতে ও এটিএম বুথ ২৩০টিতে উন্নীত হয়েছে। এছাড়াও দেশব্যাপী আমাদের ৩০টি ক্যাশ ডিপোজিট মেশিন, এক হাজার ৫৮৮টি পিওএস টার্মিনাল, ১৯টি ইউটিলিটি সার্ভিস বিল পেমেন্ট বুথ এবং এক হাজার ৯০০টি রেমিট্যান্স ডেলিভারি পয়েন্ট রয়েছে। বর্তমানে আমাদের সর্বমোট কাস্টমার টাচ্‌ পয়েন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮১৪টিতে। যেগুলো থেকে মোট ৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮৩৭ জন গ্রাহককে সেবা দেওয়া হচ্ছে। আমার বিশ্বাস দেশের বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে সম্ভবত এটি একটি সর্বোচ্চ সংখ্যা যা মাত্র ৯ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এই সাফল্য অর্জন করেছে ব্র্যাক ব্যাংক।

বাংলাদেশের আর্থিক খাতের জন্য ২০০৯ ছিল একটি ব্যতিক্রমধর্মী চ্যালেঞ্জের বছর। দেশে গত তিন বছর ধরে জাতীয় আমানত (ডিপোজিট) ও জাতীয় বিনিয়োগের মধ্যকার ব্যবধান বেশ বেড়ে চলেছে। একদিকে বিনিয়োগের পরিমাণ কম হওয়ায় মুদ্রাবাজারে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ বেড়েছে, অন্যদিকে ব্যাংকগুলোও বছর জুড়ে তাদের দেওয়া ঋণের বিপরীতে সুদের হারসহ অন্যান্য সার্ভিস চার্জ কমানোর চাপে ছিল। এ ধরনের বিরূপ পরিসি'তিতেও আপনাদের এই ব্যাংক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

আপনাদের এই ব্যাংক গত বছর মোট ১৩০৩.৫৮ মিলিয়ন বা ১৩০ কোটি ৩৫ লাখ ৮০ হাজার টাকার নিট মুনাফা অর্জন করেছে। যা আগের বছরের তুলনায় ৩৪% শতাংশ বেশি। আলোচ্য বছরে আমাদের শেয়ারপ্রতি প্রকৃত সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৩৭১.৫৫. টাকা। যা এর আগের ২০০৮ সালে ছিল ৩১১.৭১ টাকা। ২০০৯ সালে আমাদের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়ায় ৬০.৯৮ টাকা। যা এর আগের বছর ছিল ৪৫.০০ টাকা। অর্থাৎ আলোচ্য বছরে আগের বছরের চেয়ে আমাদের ইপিএস ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। ২০০৯ সালে আমাদের ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয়েছে ৩৭১৭.৫৮ মিলিয়ন বা ৩৭১ কোটি ৭৫ লাখ ৮০ টাকা। যা আগের বছরের চেয়ে ১৭ শতাংশ বেশি। আলোচ্য বছরে আমাদের ব্যাংকের মোট সম্পদমূল্য বেড়ে ৯৪,৫৮১ মিলিয়ন বা ৯ হাজার ৪৫৮ কোটি ১০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি। আমরা বিশ্বাস করি যে ক্রমাগতভাবে গ্রাহক সেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে আপনাদের এই ব্যাংক আগামী বছরগুলোতে নতুন উচ্চতায় উন্নীত হবে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকিংয়ের অংশ হিসেবে আপনাদের ব্যাংকটি গত বছর ইকুইটি মার্কেটেও যাত্রা শুরম্ন করেছে। আমরা ইকুইটি পার্টনারস সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ৫১ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করেছি। বর্তমানে এই দুটি কোম্পানি যথাক্রমে ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড ও ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেড নামে ব্যবসায় পরিচালনা করছে। আমরা এমন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চাই যেটি থেকে আমাদের গ্রাহকদেরকে সকল ধরনের আর্থিক সেবা প্রদান করতে পারব। এতে স্বল্প আয়ের লোকদের জন্য দেশের গতিশীল পুঁজিবাজারে প্রবেশ করে লাভ করার সুযোগ নিশ্চিত হবে বলে আমরা আশা করি।

আপনাদের সদয় অবগতির জন্য আমরা আনন্দের সাথে জানাতে চাই যে ব্র্যাক ব্যাংক সব সময়ই প্রচলিত ব্যাংকিং কার্যক্রমের গন্ডি ছাড়িয়ে বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় আরো কিছু উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। সে অনুযায়ী চলতি বছরে আমরা একটি সাবসিডিয়ারি বা সহযোগী কোম্পানি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরম্ন করেছি যেটি পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পি.এস.ও) ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। বাংলাদেশ পেমেন্ট এন্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেম রেগুলেশন ২০০৯-এর আলোকে এই পিএসও ও পিএসপির ৫১ শতাংশ শেয়ারের মালিক হবে ব্র্যাক ব্যাংক। বাকি ৪৯ শতাংশ শেয়ার নেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক লিমিটেড লায়বিলিটি কোম্পানি মানি ইন মোশন (এমআইএম) নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এমআইএম-এর প্রেসিডেন্ট ইকবাল কাদির হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক। তিনি একজন দূরদর্শী উদ্যোক্তাও, যিনি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা ও স্বল্প আয়ের দেশে মোবাইল ফোন সেবা চালুর ব্যাপারে সহযোগিতা করেছেন। এমআইএম ইলেকট্রনিক পস্ন্যাটফর্ম ও মোবাইল ফোনের মতো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাংকের সেবা না পাওয়া মানুষদের কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে কাজ করে থাকে। আমরা আশা করি যে আমাদের এই যৌথ উদ্যোগে গঠিত কোম্পানিটি শিগগির ব্র্যাক ব্যাংকের সার্ভিস চ্যানেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আবির্ভূত হবে। এর ফলে ই-কমার্স ও মোবাইল ব্যাংকিং সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার মাধ্যমে আমাদের গ্রাহকভিত্তি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হবে।

এছাড়াও আমরা ডান এন্ড ব্র্যাডস্ট্রিট রেটিং এজেন্সি বাংলাদেশ লিমিটেড নামে আরো একটি সম্ভাবনাময় কোম্পানিতেও বিনিয়োগ করেছি। এই প্রতিষ্ঠানের মূল কোম্পানি ডান এন্ড ব্র্যাডস্ট্রিট করপোরেশনের সদর দপ্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে অবসি'ত। এটি ব্যবসায়িক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ঋণ সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহকারী বা প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠান। তবে কোম্পানিটি সবচেয়ে বেশি পরিচিত লাভ করেছে ও সমাদৃত হয়েছে এর ডাটা ইউনিভার্সাল নাম্বারিং সিস্টেমের (ডি-ইউ-এন-এস) জন্য। বিশ্বে ১৫০ মিলিয়ন বা ১৫ কোটি কোম্পানি ডান এন্ড ব্র্যাডস্ট্রিট করপোরেশনের ডি-ইউ-এন-এস আইডেন্টিফায়ার ব্যবহার করে। ডান এন্ড ব্র্যাডস্ট্রিট রেটিং এজেন্সি বাংলাদেশ লিমিটেড একটি যৌথ মূলধনী কোম্পানি। এর ইকুইটি পার্টনারদের মধ্যে রয়েছে ডান এন্ড ব্র্যাডস্ট্রিট মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়াসহ কয়েকটি বড় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। প্রস্তাবিত এই কোম্পানিটি এখন দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রেডিট রেটিং বা ঋণমান নির্ণয়ের দায়িত্ব পালনের পরিকল্পনা করছে। এরফলে দেশের এসএমই খাতের উন্নয়নে একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আমরা গত বছরে আপনাদেরকে জানিয়েছিলাম যে ব্যাংকের ব্যবসায় সমপ্রসারণ এবং মূলধন পর্যাপ্ততা মেটাতে আমরা টায়ার-২ হিসেবে সাব অর্ডিনেটেড কনভার্টিবল বন্ড ইস্যু করতে যাচ্ছি। আর এবারে আপনাদেরকে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমরা এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে অনুমোদন চেয়ে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) একটি আবেদন পেশ করেছি। প্রসত্মাবিত এই সাব অর্ডিনেটেড কনভার্টিবল বন্ডের মোট মূল্য হবে ৩০০ কোটি টাকা। এতে প্রি-প্লেসমেন্ট ও পাবলিক অফারিং এর অনুপাত প্রস্তাব করা হয়েছে যথাক্রমে ৯০:১০।

ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড সেবা কার্যক্রম জোরদারকরণের লক্ষ্যে সব সময়ই এর প্রযুক্তিভিত্তির আধুনিকায়ন করে থাকে। প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সুবাদে আমরা দেশব্যাপী তৃণমূল পর্যায় পর্যনত্ম আমাদের কার্যক্রম সমপ্রসারণ করতে সক্ষম হয়েছি। কারণ আমরা নিজেদেরকে গতানুগতিক বা সনাতনী ব্যাংকিং কার্যক্রমের গন্ডিতে সীমিত রাখিনি। ব্র্যাক ব্যাংক নতুন একটি ডাটা সেন্টার সমৃদ্ধ তথ্য ভান্ডার গড়ে তুলতে গত বছর বড় অংকের অর্থ বিনিয়োগ করেছে। ব্যাংকের সকল গ্রাহকের জন্য দক্ষ ও নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া কৌশলের অংশ হিসাবে এটি করা হয়েছে।

আপনাদের ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে মানবসম্পদের উন্নয়নে সম্পূর্ণ অঙ্গীকারাবদ্ধ। কারণ বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক পরিসি'তিতে পণ্য-সেবা সম্প্রসারণের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে মানবসম্পদের উন্নয়ন সাধন জরম্নরি। সেজন্য গত বছর জুড়ে আমরা সুপরিকল্পিতভাবে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করেছি। এতে প্রশিক্ষক হিসেবে রাখা হয় ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞদের। ২০০৯ সালে ব্র্যাক ব্যাংকের মোট ৮ হাজার ৬৪৪ জন কর্মীকে মোট এক লাখ ৭৭ হাজার ১৪২ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কর্মীদের প্রত্যেকে গড়ে ৫৭ ঘণ্টা করে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। আমরা আনন্দের সঙ্গে আপনাদের জানাচ্ছি যে ব্র্যাক ব্যাংকের সকল কর্মীই তথ্যপ্রযুক্তির সাথে সম্পৃক্ত। তাই আমরা তাঁদের জন্য ই-লার্নিং মডিউল প্রবর্তন করেছি, যাতে তাঁরা নিজেরাও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরো দক্ষ হয়ে ওঠেন। আমাদের মানবসম্পদ বিভাগও কর্মীদের উন্নয়ন-প্রয়োজনের নিরিখে বছরের পর বছর ধরে প্রশিক্ষণ আয়োজনের পাশাপাশি এই কার্যক্রমের ওপর নিবিড় তদারকি করে আসছে। কারণ ব্র্যাক ব্যাংকের একটি প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, কর্মীদের দক্ষতার উন্নয়ন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাসেল-২ বাসত্মবায়নে ব্র্যাক ব্যাংককে তার পরিশোধিত মূলধন ও রিজার্ভ ফান্ড বা সংরক্ষিত তহবিল আগামী ২০১১ সালের ১১ আগস্টের মধ্যে ৪০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে হবে। এরমধ্যে পরিশোধিত মূলধন ২০০ কোটি টাকার চেয়ে কম হতে পারবে না। এছাড়াও ব্র্যাক ব্যাংককে রিস্ক ওয়েটেড এ্যাসেট (আরডব্লিউএ) বা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের কমপক্ষে ১০ শতাংশ পরিমাণ অর্থ মিনিমাম ক্যাপিটাল এডিকোয়েসি রেশিও বা নূন্যতম মূলধন পর্যাপ্ততা হিসেবে রাখার কথা। একই সঙ্গে কোর ক্যাপিটালও (টায়ার-১) আরডব্লিউএ'র ৫ শতাংশের কম রাখা যাবে না। এসব দিক থেকে ব্র্যাক ব্যাংক মোটামুটি সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। কারণ বর্তমানে আমাদের ৬০৭ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন ও রিজার্ভ ফান্ড রয়েছে। পাশাপাশি আরডব্লিউএ বা এর বিপরীতে বর্তমানে মিনিমাম ক্যাপিটাল এডিকোয়েসি রেশিও বা এর হার হল ১২.৬৯ শতাংশ। সেই সঙ্গে আরডব্লিউএ’র বিপরীতে কোর ক্যাপিটাল হিসাবে টায়ার-১ এর হার হচ্ছে ১০.২৬ শতাংশ, যা টায়ার-২ এর ক্ষেত্রে রয়েছে ২.৪২ শতাংশ। তবে ভবিষ্যত ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে আমরা যে প্রক্ষেপণ করেছি তাতে টায়ার-২ ক্যাপিটাল পর্যাপ্ত নয়। সেজন্য আমরা তহবিল বাড়ানোর জন্য সাবঅর্ডিনেটেড কনভার্টিবল বন্ড ইস্যু করতে যাচ্ছি।

সেবার মান উন্নয়নে চলতি বছর থেকে আপনাদের ব্যাংকের রয়েছে একটি নিবেদিতপ্রাণ কর্মীবাহিনী রয়েছে। এই কর্মীদল সকল পর্যায়ে বিশ্ব মানের সেবা বাসত্মবায়নের লক্ষে নিবেদিভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কারণ আমাদের গ্রাহকদেরকে আমরা অতিথিই মনে করি। ব্যাংকের সকল স্তরে সেবামানের একটি কাঠামো আমরা বাসত্মবায়ন করেছি। সেবা মান বাড়ানো ও গ্রাহক সন্তুষ্টির লক্ষে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড অঙ্গীকারাবদ্ধ। সে অনুযায়ী অনেকগুলো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 'জয় অফ ব্যাংকিং' - এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ব্র্যাক ব্যাংক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যা এই ব্যাংকের গ্রাহক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে এক আনন্দময় ব্যাংকিংয়ের অভিজ্ঞতা দিয়ে যাচ্ছে। সেবার মান সমুন্নত রাখার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্যাম্পেইন বা প্রচার কার্যক্রমেও আমরা একই ধারা বজায় রেখে চলেছি। আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাজার জরিপকারী একটি খ্যাতনামা কোম্পানির পরিচালিত ‘মিস্ট্রি শপিং সার্ভে’ শীর্ষক এক জরিপে আমাদের সেবার মানে উন্নয়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে অসামান্য অবদানের জন্য সেরা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে গত বছর ব্র্যাংক ব্যাংক লিমিটেড দেশের অন্যতম মর্যাদাশীল পুরস্কার ৯ম ডিএইচএল-ডেইলি স্টার বেস্ট বিজনেস এ্যাওয়ার্ড লাভ করেছে। এছাড়াও আমরা ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড এ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) ৯ম জাতীয় পুরস্কার হিসেবে ‘সার্টিফিকেট অব মেরিট’ লাভ করেছি। ২০০৮ সালে প্রকাশিত সেরা হিসাব ও প্রতিবেদনের জন্য ব্র্যাক ব্যাংককে এই পুরস্কার দেয় আইসিএবি।

সেবার ক্ষেত্রে আমাদের ট্রিপল-বটম-লাইন বা ত্রিমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে আপনাদের ব্যাংকটি গত বছর সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) পালনে বেশ কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। সিএসআর-এর আওতায় স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তা দেওয়া থেকে শুরু করে দেশে শিক্ষা খাতে প্রবৃদ্ধি অর্জন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সমুন্নত রাখার বিষয়েও আমরা অবদান রেখে চলেছি। টেকসই ব্যবসায়ের জন্য অঙ্গীকারদ্ধ ব্যাংক হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড বিশ্বে নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত ব্যাংকগুলোর জোট ‘দ্য গ্লোবাল এ্যালায়েন্স ফর ব্যাংকিং অন ভ্যালুজ (জিএবিভি)’-এর সদস্য হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় একমাত্র ব্র্যাক ব্যাংকই হল বৈশ্বিক ব্যাংক খাতের এই মর্যাদশীল জোটের সদস্য। গ্লোবাল এ্যালায়েন্স ফর ব্যাংকিং অন ভ্যালুজ (জিএবিভি) নামের এই জোট ‘নৈতিকতা নির্ভর ব্যাংকিংয়ের উন্নয়নের লক্ষ নিয়ে কাজ করে। এটি হচ্ছে একটি বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনের অংশ যেখানে সমাজ ও পরিবেশের প্রতি আর্থিক খাতের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। এই ধারার ব্যাংকিং আন্দোলন বা প্রক্রিয়ায় নৈতিকতাসম্পন্ন বিনিয়োগ, সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল বিনিয়োগ, কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি বা প্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) পালনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এছাড়াও এ ধরনের ব্যাংকিংয়ে ন্যায্য বাণিজ্য আন্দোলন, গ্রাহক সেবায় নৈতিকতা প্রদর্শন বা বর্জন ইত্যাদি বিষয়ও মেনে চলে। নৈতিকতাসম্পন্ন ব্যাংকগুলো একই ধরণের মূলনীতি মেনে চলে, যেখানে প্রকল্প অর্থায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং সামাজিক ও পরিবেশের উপর জোর দেওয়া হয়। আপনিও আমাদের বার্ষিক প্রতিবেদন দেখলে বুঝতে পারবেন যে আমরা পরিবেশের বিষয়ে কতটা যত্নবান। কারণ আমরা মনে করি, প্রতিটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগে একটি করে পাতা গজানোর চেষ্টা করলেও আমাদের পৃথিবীটা সবুজময় হয়ে উঠবে। এই অভিযাত্রায় আমরা আপনাদের কাছ থেকে ক্রমাগত সমর্থন আশা করি।

আমরা জোরালোভাবেই বিশ্বাস করি যে চলতি ২০১০ সালটি হবে ব্র্যাক ব্যাংকের জন্য আরেকটি সফল বছর। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির প্রচলন ও এর যথাযথ বাসত্মবায়ন এবং নিবেদিত ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার সুবাদে আমরা ব্র্যাক ব্যাংকের জন্য টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারব। যার ফলে আমাদের সম্পদের মান (এ্যাসেট কোয়ালিটি) বাড়বে এবং সংশিস্নষ্ট সকল পক্ষের সর্বোচ্চ স্বার্থও সমুন্নত থাকবে।

আমি ব্র্যাক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে থাকা আমার সকল সহকর্মীকে তাঁদের অব্যাহত সমর্থন-সহায়তা, দিকনিদের্শনা ও যোগ্য নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। সেই সঙ্গে আমি আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রমের জন্য এই ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা ও কর্মীদেরও গভীর প্রশংসা করছি।

এছাড়া আমি বাংলাদেশ ব্যাংক, সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি), রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ এন্ড ফার্ম, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) প্রভৃতি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছেও তাদের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

পরিশেষে, আমাদের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রাখার জন্য আপনাদের সকলকে আমি আরো একবার ধন্যবাদ জানাই। আমি নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করি যে আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আমরা আগামীতেও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে সক্ষম হব।

ডাউনলোড র্ফম
২৪ ঘন্টা কল সেন্টার: ১৬২২১
বিদেশ থেকে কল করতে:
+৮৮০ ২ ৮৮৫২২৩৩