সংগ্রাম এবং সাফল্য মিলে তৈরি একটি নাম জয়া চাকমা। তার জন্ম রাঙামাটি জেলায়। ২০০২ সালে তিনি রাঙ্গামাটি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। মূলত এখান থেকেই ফুটবলের সাথে তার পথচলা শুরু। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে ঢাকায় আন্তঃজেলা ফুটবল টুর্নামেন্টে নিজ জেলা রাঙ্গামাটি অপরাজিত হয়। অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে সবার নজর কাড়েন তিনি। জয়া চাকমা টানা চার বছর বয়সভিত্তিক ফুটবলের পাশাপাশি জাতীয় দলেও খেলেছেন। এরই সাথে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে করেছেন মাস্টার্স। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যান্ডবল দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রতি বছর তিনি দ্রুততম মানবী হন।
জাতীয় দলে থাকতেই ২০১০ সালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের রেফারিংয়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ২০১২ সালে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়লে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের প্রশিক্ষক সাদাত হোসেনের পরামর্শে রেফারিংয়ে মনোনিবেশ করেন। ২০১২ সালে বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট দিয়ে নিয়মিত রেফারিং শুরু করেন।
শীঘ্রই বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী রেফারি হিসেবে আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন ফিফায় যোগদান করছেন জয়া চাকমা। এর আগে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী হিসাবে আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ পরিচালনা করেন তিনি।
প্রবল ইচ্ছাশক্তির বলে আজ জয়া চাকমা বাংলাদেশের ফুটবলের একজন আদর্শ। তাঁর এই অর্জনের ছায়ায় বেড়ে উঠুক আমাদের দেশের লাখো তরুণীর এগিয়ে যাবার গল্প।

জয়া চাকমার ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতেঃ https://www.newagebd.net/article/82559/meet-bangladeshs-first-female-referee-joya