তাশমিম মুনতাজির চৌধুরী
হেড অব সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স
ইমেইল: tashmeem.muntazir@bracbank.com


আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত ঝুঁকি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে, সেখানে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অর্থায়ন একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এটি নিম্ন-কার্বন ও সহনশীল অর্থনীতিতে রূপান্তরের পথকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন মূলত এমন উদ্যোগগুলোতে অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দেয়, যেগুলো গ্রিনহাউস গ্যাস (জিএইচজি) নিঃসরণ কমাতে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার উৎসাহিত করতে কাজ করে। এই উদ্যোগগুলো আমাদের পরিবেশগত বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ এবং আগামীর প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, টেকসই অর্থায়ন শুধু পরিবেশগত দিকেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে পরিবেশ, সামাজিক এবং সুশাসন (ইএসজি) উপাদানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা মানুষ, পৃথিবী এবং ব্যবসার জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিয়ে আসে। পরিবেশগত লক্ষ্যগুলোর পাশাপাশি সামাজিক ও সুশাসন-সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার মাধ্যমে টেকসই অর্থায়ন এমন এক অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করে, যা সবার জন্যই উপকারি।
প্যারিস চুক্তি এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) মতো বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অর্থায়ন মূল চালিকাশক্তি। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের নিজস্ব ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকেও সমর্থন করে, যার মধ্যে রয়েছে ভিশন ২০৪১, দেশের জলবায়ু কার্যক্রমবিষয়ক প্রতিশ্রুতি (আইএনডিসি) এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য ডেল্টা প্ল্যান ২১০০। এসব লক্ষ্যকে গ্রহণ করার মাধ্যমে আমরা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং পুরো পৃথিবীর জন্য একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারব।
ব্র্যাক ব্যাংকে আমরা এই রূপান্তরকে সমর্থন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা স্থানীয় ও বৈশ্বিক— উভয় পরিমণ্ডলে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়তা করবে। একসাথে আমরা সবার জন্য একটি আরও পরিবেশবান্ধব ও আরও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি।
ব্র্যাক ব্যাংকে আমাদের লক্ষ্য হলো টেকসই ব্যাংকিংয়ে নেতৃত্ব প্রদান করা, যেখানে আমাদের ব্যবসায়িক বিনিয়োগ এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হবে। আমরা পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অর্থায়নকে এগিয়ে নিয়ে স্থানীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং সামাজিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে চাই।
এটি অর্জনের জন্য আমরা সক্রিয়ভাবে আমাদের স্টেকহোল্ডারদের সাথে কাজ করি, যাতে আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তে পরিবেশ, সামাজিক এবং সুশাসন (ইএসজি) উপাদানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। এই সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের কার্যক্রমকে পৃথিবী ও সমাজের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলে এবং একইসঙ্গে সবার জন্য টেকসই সুবিধা প্রদান নিশ্চিত করে।
আমাদের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে আমরা সারাদেশে ৫০টি বিশেষায়িত ‘সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স হেল্প ডেস্ক’ স্থাপন করেছি, যাতে দেশজুড়ে টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়গুলো দ্রুত ও দক্ষভাবে সমাধান করা যায়। এই হেল্প ডেস্কগুলো মূল যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে এবং গ্রাহকদের কারিগরি সহায়তা প্রদান করে। যেমন- পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের মূল্য ও পরিসর নির্ধারণ। আমাদের ভূমিকা হলো গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা, যাতে টেকসই উন্নয়ন তাঁদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অগ্রাধিকার পায়।
এছাড়াও, আমরা আমাদের সব গ্রাহকের জন্য পরিবেশগত ও সামাজিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করি, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রণীত পরিবেশগত ও সামাজিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা (ইএসআরএম) নির্দেশিকা অনুসরণ করে পরিচালিত হয়। এর মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করি যে, আমাদের প্রতিটি অর্থায়ন সিদ্ধান্ত পরিবেশ ও সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বর্তমানে আমাদের মোট পোর্টফোলিওর ৮১% টেকসই অর্থায়নে এবং এর মধ্যে ২৪% পরিবেশবান্ধব অর্থায়নে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এভাবে মার্কেটে আমরা একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছি, যেখানে টেকসই অর্থায়নে আমাদের শেয়ার প্রায় ৯% এবং পরিবেশবান্ধব অর্থায়নে প্রায় ১০%। এতে করে আমরা একটি আরও টেকসই ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাচ্ছি।
ব্র্যাক ব্যাংকে আমরা এমন প্রকল্পে অর্থায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়তা করে। পরিবেশ ও সমাজে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টির জন্য আমরা যেসব প্রধান প্রোডাক্টের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি
নবায়নযোগ্য জ্বালানি টেকসই ও সীমাহীন। ফলে, এটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার একটি অপরিহার্য সমাধান। কয়লা বা জীবাশ্ম জ্বালানির মতো সীমিত সম্পদের বিপরীতে সৌরশক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি পরিবেশ রক্ষায় সহায়তা করে। আমরা সৌরশক্তি এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য প্রযুক্তিতে আরও বেশি বিনিয়োগের লক্ষ্য নিয়েছি, যাতে একটি সবুজতর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা যায়।
২. জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি
বর্তমান বিশ্ব ক্রমেই জ্বালানিনির্ভর হয়ে উঠছে। এ কারণে বাড়তে থাকা জ্বালানি খরচ সামাল দিতে শিল্পক্ষেত্রে জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। এই প্রযুক্তিগুলো জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ কমায়, অপচয় হ্রাস করে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহায়তা করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মাধ্যমে ব্র্যাক ব্যাংক জ্বালানি-সাশ্রয়ী উদ্যোগে অর্থায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
৩. এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) ও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ডাব্লিউটিপি)
এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) বর্জ্য পানি পরিশোধনের মাধ্যমে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কমায়। আর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ডাব্লিউটিপি) মানুষের জন্য বিশুদ্ধ ও পানযোগ্য পানি নিশ্চিত করে। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ যেসব এলাকায় পানির অভাব রয়েছে, সেখানে জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে ব্র্যাক ব্যাংক এসব প্ল্যান্টে বিনিয়োগ করছে।
৪. পরিবেশবান্ধব ভবন
সবুজ ভবন বা পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ করা হয় ইকো-ফ্রেন্ডলি উপকরণ ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী সিস্টেম ব্যবহার করে, যা এলইইডি, ইডিজিই, জিআরইএইচএ অথবা এসআরইডিএ কর্তৃক সনদপ্রাপ্ত। এসব ভবন সম্পদের ব্যবহার কমায়, বর্জ্য হ্রাস করে এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে সহায়তা করে। বৈশ্বিক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্র্যাক ব্যাংক পরিবেশবান্ধব ভবন প্রকল্পে অর্থায়নে জোর দিচ্ছে, যাতে সবার জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তোলা যায়।
৫. রিসাইক্লিং প্ল্যান্টস
শিল্পায়নের যুগে বর্জ্য একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা। রিসাইক্লিং প্ল্যান্টে বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা সার্কুলার অর্থনীতিকে উৎসাহিত করি, যেখানে বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর করা হয় এবং পরিবেশের ওপর প্রভাব কমানো যায়। ব্র্যাক ব্যাংক এমন প্রকল্পকে সহায়তা করে, যা বর্জ্য হ্রাসে ভূমিকা রাখে এবং একটি আরও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়তা করে।
৬. পরিবেশবান্ধব ইটভাটা
প্রচলিত ইটভাটা বায়ু ও পানি দূষণের অন্যতম বড় কারণ এবং এটি স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। এই সমস্যার সমাধানে ব্র্যাক ব্যাংক আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ইটভাটা প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে। যেমন- জিগজ্যাগ ভাটা, যা দূষণ কমায় এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা বাড়ায়। এর মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ গড়ে তোলার সরকারি উদ্যোগকে আমরা সহায়তা করছি।
৭. এলইডি উৎপাদন ও সংযোজন
ভবন ও শিল্পখাতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের একটি বড় অংশই আলোতে ব্যয় হয়। এলইডি বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী, খরচ-সাশ্রয়ী এবং দীর্ঘস্থায়ী। বিদ্যুৎ খরচ কমানো ও টেকসই আলোক উৎসের প্রচারের লক্ষ্যে ব্র্যাক ব্যাংক এলইডি উৎপাদন ও সংযোজন প্রকল্পে অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
৮. লিথিয়াম উৎপাদন কারখানা
ইলেকট্রিক যানবাহন (ইভি) জনপ্রিয়তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইভি ব্যাটারির প্রধান উপাদান লিথিয়ামের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পরিবহন সল্যুশনের প্রসার ঘটাতে ব্র্যাক ব্যাংক লিথিয়াম উৎপাদন কারখানায় অর্থায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
৯. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কারখানা
বাংলাদেশের উচ্চ জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কারখানা বর্জ্যকে কার্যকর সম্পদে রূপান্তর করতে সাহায্য করে, দূষণ রোধ করে এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষা করে। একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে ব্র্যাক ব্যাংক উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চর্চাকে সহায়তা করে, এমন প্রকল্পে বিনিয়োগে জোর দিচ্ছে।
১০. পাটজাত পণ্য উৎপাদন
পাট হলো প্লাস্টিক ও অন্যান্য অপচনশীল উপাদানের একটি প্রাকৃতিকভাবে পচনশীল ও টেকসই বিকল্প। বাংলাদেশে পাট একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষিজ ফসল। বিশ্ব যখন ক্ষতিকর সিনথেটিক পণ্যের ব্যবহার থেকে সরে আসছে, তখন ব্র্যাক ব্যাংক পরিবেশবান্ধব ও প্রাকৃতিক বিকল্পকে উৎসাহিত করতে পাটজাত পণ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ করছে।
টেকসই উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে অবদান রাখে এমন প্রকল্প ও শিল্পকে সহায়তা করতে ব্র্যাক ব্যাংকে আমরা বিভিন্ন রেয়াতি তহবিল ও পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের সুবিধা প্রদান করি। নিচে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে পাওয়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা উল্লেখ করা হলো:
১. পরিবেশবান্ধব পুনঃঅর্থায়ন স্কিম (জিআরএস)
পরিবেশবান্ধব পুনঃঅর্থায়ন স্কিম (জিআরএস) হলো পরিবেশবান্ধব প্রকল্প ও পণ্যে অর্থায়নকে উৎসাহিতকরার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রবর্তিত ১০০০ কোটি টাকার একটি রিভলভিং পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা।
মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
বাংলাদেশ ব্যাংকের জিআরএস-সম্পর্কিত সার্কুলার পড়তে এখানে ক্লিক করুন
২. প্রযুক্তি উন্নয়ন/আধুনিকায়ন তহবিল (টিডিএফ)
প্রযুক্তি উন্নয়ন তহবিল (টিডিএফ) হলো রপ্তানিমুখী শিল্পের আধুনিকায়ন এবং নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নেরউদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রবর্তিত ১০০০ কোটি টাকার একটি পুনঃব্যবহারযোগ্য স্কিম।
মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
বাংলাদেশ ব্যাংকের টিডিএফ-সম্পর্কিত সার্কুলার পড়তে এখানে ক্লিক করুন
৩. গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ)
গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ) হলো রপ্তানি-আমদানিমুখী শিল্পে টেকসই প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার জন্য ৫০০০ কোটি টাকার একটি রিভলভিং পুনঃঅর্থায়ন স্কিম।
মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
বাংলাদেশ ব্যাংকের জিটিএফ-সম্পর্কিত সার্কুলার পড়তে এখানে ক্লিক করুন
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্র্যাক ব্যাংক সারা দেশে ৫০টি বিশেষায়িত টেকসই অর্থায়ন হেল্প ডেস্ক স্থাপন করেছে। এসব হেল্প ডেস্কের উদ্দেশ্য হলো পরিবেশবান্ধব পণ্য, টেকসই প্রকল্প এবং সংশ্লিষ্ট অর্থায়নের সুযোগ সম্পর্কে দিকনির্দেশনা খুঁজছেন এমন গ্রাহকদের দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা প্রদান করা। আমাদের টিম টেকসই অর্থায়নের বিভিন্ন দিক বুঝতে সাহায্য করার জন্য এবং পরিবেশবান্ধব ও বৈশ্বিক টেকসই লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আর্থিক সমাধান গ্রহণে সহায়তা করার জন্য সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।
এই হেল্প ডেস্কগুলোর মাধ্যমে গ্রাহকরা বিদ্যমান পরিবেশবান্ধব অর্থায়নের সুযোগ, যোগ্যতার মানদণ্ড এবং টেকসই অর্থায়ন উদ্যোগের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেতে পারেন। আপনি যদি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প, জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমাধান বা অন্যান্য পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে অর্থায়ন করতে চান, আমাদের নিবেদিত টিম টেকসই উন্নয়নের পথে আপনার যাত্রা সহজ ও কার্যকর করতে সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।
নিচে ব্র্যাক ব্যাংকের সেই শাখাগুলোর তালিকা দেওয়া হলো যেখানে টেকসই অর্থায়ন হেল্প ডেস্ক রয়েছে এবং যেগুলো আপনার টেকসই অর্থায়ন সম্পর্কিত প্রয়োজন মেটাতে প্রস্তুত:
| শাখার নাম | শাখার নাম | শাখার নাম | শাখার নাম |
|---|---|---|---|
| সাতমসজিদ রোড শাখা | পান্থপথ শাখা | যাত্রাবাড়ী এসএমইএসসি শাখা | মগবাজার শাখা |
| উত্তরা জসীম উদ্দিন শাখা | ইমামগঞ্জ শাখা | মিটফোর্ড শাখা | শ্যামলী শাখা |
| যশোর শাখা | নর্থ গুলশান শাখা | মতিঝিল শাখা | বনশ্রী শাখা |
| রাজশাহী শাখা | রামপুরা শাখা | প্রগতি সরণি শাখা | বিজয়নগর শাখা |
| ধোলাইখাল শাখা | মিরপুর শাখা | মোহাম্মদপুর শাখা | মিরপুর সেকশন ১ শাখা |
| নতুন বাজার শাখা | সিডিএ অ্যাভিনিউ শাখা | আগ্রাবাদ শাখা | কাজীর দেউড়ি শাখা |
| হালিশহর শাখা | আশুলিয়া শাখা | বাড্ডা শাখা | বনানী-১১ শাখা |
| বরিশাল শাখা | বোর্ড বাজার শাখা | বগুড়া শাখা | চুয়াডাঙ্গা শাখা |
| কুমিল্লা শাখা | ডেমরা শাখা | ফরিদপুর শাখা | ইসলামপুর শাখা |
| খুলনা শাখা | মাধবদী শাখা | মাইজদী শাখা | মহাখালী শাখা |
| মৌলভীবাজার শাখা | ময়মনসিংহ শাখা | নারায়ণগঞ্জ শাখা | পাবনা শাখা |
| রংপুর শাখা | সাভার শাখা | সিরাজগঞ্জ শাখা | সিলেট শাখা |
| টাঙ্গাইল শাখা | জিঞ্জিরা শাখা |
১. বিশেষজ্ঞ সহায়তা: প্রতিটি হেল্প ডেস্কে আমাদের অভিজ্ঞ কর্মীরা আপনার ব্যবসা বা ব্যক্তিগত প্রকল্পের জন্য উপযোগী টেকসই অর্থায়ন বিকল্প বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ প্রদান করে।
২. পরিবেশবান্ধব প্রোডাক্ট সম্পর্কে দিকনির্দেশনা: নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমাধান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিসহ বিদ্যমান পরিবেশবান্ধব পণ্য সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য পান।
৩. আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা: টেকসই প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা হয়, যাতে সব প্রাসঙ্গিক নিয়মকানুন ও যোগ্যতার মানদণ্ড নিশ্চিতভাবে অনুসরণ করা যায়।
৪. ইএসজি বিবেচনা: পরিবেশ, সামাজিক এবং সুশাসন (ইএসজি) বিষয়গুলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্তর্ভুক্ত করলে কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়, সে বিষয়ে জানুন।
আপনার নিকটস্থ সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স হেল্প ডেস্কে আসুন:
যদি আপনি টেকসই অর্থায়নের সুযোগ নিতে আগ্রহী হন, অথবা কোনো পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়ন বিষয়ে দিকনির্দেশনার প্রয়োজন হয়, তবে সারাদেশে আমাদের ৫০টি বিশেষায়িত সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স হেল্প ডেস্কের যেকোনো একটিতে আসতে পারেন। আমাদের এক্সপার্টরা বিদ্যমান নানা ধরনের অর্থায়নের সুবিধা সম্পর্কে আপনাকে সহায়তা করতে এবং আরও টেকসই ভবিষ্যতের পথে আপনার যাত্রায় পাশে থাকতে সর্বদা প্রস্তুত আছেন।
আজই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন অথবা তালিকাভুক্ত যেকোনো শাখায় এসে আপনার টেকসই উন্নয়নের যাত্রা শুরু করুন।
ব্র্যাক ব্যাংক সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ইউনিটের অধীনে দুটি মূল শাখা প্রতিষ্ঠা করেছে: পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিং এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর)। ব্যাংকের কার্যক্রমে টেকসই অর্থায়ন উদ্যোগগুলো অন্তর্ভুক্ত করতে এ দুটি শাখা সমন্বিতভাবে কাজ করে। টেকসই অর্থায়ন ইউনিটের তত্ত্বাবধান করে টেকসই অর্থায়ন কমিটি (এসএফসি), যা ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন কৌশলসমূহ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত। এসএফসি সরাসরি বোর্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটিকে রিপোর্ট করে, যা ব্যাংকের সার্বিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামোর সঙ্গে স্বচ্ছতা ও সামঞ্জস্য নিশ্চিত করে।
সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স কমিটি (এসএফসি) ব্র্যাক ব্যাংকে টেকসই অর্থায়ন কার্যক্রমের সুষ্ঠু পরিচালনা ও ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কমিটি টেকসই অর্থায়ন প্রকল্পের উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন তদারকি করে, যাতে তা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে এবং ব্যাংকের টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিকে আরও শক্তিশালী করে।
টেকসই অর্থায়ন কমিটির সদস্য তালিকা:
| নং | নাম | পদবী | কমিটিতে দায়িত্ব |
|---|---|---|---|
| ১ | মো. সাব্বির হোসেন | ডিএমডি ও চিফ অপারেটিং অফিসার | চেয়ারম্যান |
| ২ | মোহাম্মদ মাসুদ রানা এফসিএ | ডিএমডি ও সিএফও | সদস্য |
| ৩ | তারেক রেফাত উল্লাহ খান | ডিএমডি ও হেড অব করপোরেট ব্যাংকিং | সদস্য |
| ৪ | সৈয়দ আবদুল মোমেন | ডিএমডি ও হেড অব এসএমই ব্যাংকিং | সদস্য |
| ৫ | মো. শহীন ইকবাল, সিএফএ | ডিএমডি ও হেড অব ট্রেজারি অ্যান্ড এফআই | সদস্য |
| ৬ | মো. মাহিউল ইসলাম | ডিএমডি ও হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং | সদস্য |
| ৭ | আহমেদ রশীদ জয় | ডিএমডি ও চিফ রিস্ক অফিসার | সদস্য |
| ৮ | শেখ মোহাম্মদ আশফাক | ডিএমডি ও হেড অব ব্রাঞ্চেস | সদস্য |
| ৯ | এম. সারওয়ার আহমেদ | হেড অব আইসিসি | সদস্য |
| ১০ | মো. মুনিরুজ্জামান মোল্লা | হেড অব অপারেশনস | সদস্য |
| ১১ | আখতারউদ্দিন মাহমুদ | হেড অব এইচআর | সদস্য |
| ১২ | নুরুন নাহার বেগম | চিফ টেকনোলজি অফিসার | সদস্য |
| ১৩ | ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিন আকবর (অব.) | হেড অব জেনারেল সার্ভিসেস | সদস্য |
| ১৪ | একরাম কবীর | হেড অব কমিউনিকেশন | সদস্য |
| ১৫ | ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায় | চিফ মার্কেটিং অফিসার | সদস্য |
| ১৬ | তাশমিম মুনতাজির চৌধুরী | হেড অব টেকসই অর্থায়ন | সদস্য সচিব |
ব্র্যাক ব্যাংকে আমরা টেকসই উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করি। আমাদের প্রতিষ্ঠানে টেকসই উন্নয়নকে ছড়িয়ে দিতে আমরা ধারাবাহিক প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দিই। এজন্য নিয়মিতভাবে অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত প্রশিক্ষণ সেশনের আয়োজন করা হয়, যাতে কর্মীদের টেকসই অর্থায়ন, পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং ইএসজি (পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসন) বিষয়ক জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
মূল উদ্যোগসমূহ:
শিক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপের মাধ্যমে আমরা আমাদের কর্মীদেরকে টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগগুলো কার্যকরভাবে সমর্থন করতে সক্ষম করে তুলি।
২০২২ সাল থেকে ব্র্যাক ব্যাংক প্রতিবছর সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট প্রকাশ করছে, যেখানে পিসিএএফ, জিআরআই এবং আইএফআরএস-এর মতো বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়। এই পদক্ষেপ আমাদের টেকসই উদ্যোগগুলোতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং পরিমাপযোগ্য ফলাফল নিশ্চিত করে। রিপোর্টে টেকসই অর্থায়নের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নকে উৎসাহিত করে এমন প্রকল্পে অর্থায়ন এবং আমাদের স্টেকহোল্ডারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টি করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টে যে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে জলবায়ু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় আমাদের সক্রিয় পদক্ষেপ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হ্রাসে সহায়ক পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিং সমাধান উন্নয়ন। এছাড়া রিপোর্টে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রতি আমাদের অঙ্গীকারও জোর দেওয়া হয়েছে, বিশেষত ক্ষুদ্র ব্যবসা, নারী উদ্যোক্তা এবং সেবাবঞ্চিত সম্প্রদায়কে ক্ষমতায়নের মাধ্যমে, যাতে তারা আর্থিক সেবায় প্রবেশাধিকার পায় এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে সক্ষম হয়।
এছাড়াও, রিপোর্টে আন্তর্জাতিক টেকসই উন্নয়ন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ প্রকাশে আমাদের অগ্রগতি, এবং ডিজিটাল রূপান্তর, সুশাসন উন্নয়ন ও করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার ওপর আমাদের ধারাবাহিক মনোযোগের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এসব প্রচেষ্টা পরিবেশ ও সমাজ উভয়ের ওপর ইতিবাচক এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব নিশ্চিত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
আমাদের রিপোর্টগুলো দেখতে ক্লিক করুন এখানে
পার্টনারশিপ ফর কার্বন অ্যাকাউন্টিং ফাইন্যান্সিয়ালস (পিসিএএএফ)-এর স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক পিসিএএএফ-এর পদ্ধতি ব্যবহার করে স্কোপ ১, স্কোপ ২ এবং স্কোপ ৩ জুড়ে তাদের গ্রিনহাউস গ্যাস (জিএইচজি) নিঃসরণ হিসাব ও প্রকাশে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই অঙ্গীকার আমাদের বৃহত্তর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আমাদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতাকে বাড়ায়। পিসিএএএফ কর্তৃক অনুমোদিত আমাদের জিএইচজি নিঃসরণের তথ্য তাদের ওয়েবসাইটে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত, যা আমাদের অগ্রগতিকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে এবং নিশ্চিত করে যে আমাদের কার্যপ্রণালি আন্তর্জাতিক রিপোর্টিং মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আপনি এই লিংকের মাধ্যমে পিসিএএএফ-এর ওয়েবসাইটে আমাদের সাসটেইনেবিলিটি ডেটা দেখতে পারবেন।
পিসিএএএফ ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে আমরা বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ধারিত লক্ষ্য স্থির করতে পারি, যাতে আমাদের কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমানো যায় এবং আমাদের পোর্টফোলিও প্যারিস জলবায়ু চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে। গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ব্যাংকিং অন ভ্যালুজ (জিএবিভি) -এর সদস্য হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক আর্থিক খাতে দায়িত্বশীল, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কার্যপদ্ধতি প্রদর্শনের চেষ্টা করে। আমাদের সাসটেইনেবিলিটি পারফরম্যান্স উন্মুক্তভাবে প্রকাশ ও ধারাবাহিকভাবে উন্নত করার মাধ্যমে আমরা এমন একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করতে চাই, যা শিল্পখাতের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুসরণযোগ্য হবে।
তাশমিম মুনতাজির চৌধুরী
হেড অব সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স
ইমেইল: tashmeem.muntazir@bracbank.com