


নতুন গন্তব্যে চলো আনন্দে
সেই কবে থেকে ব্যাকপ্যাক গুছিয়ে প্রস্তুত আপনি! কিন্তু আপনার মনে ভর করে আছে উত্তেজনা, শঙ্কা, ভয়- পথে কী হয়, না হয়! যদি আপনার ট্যুর প্ল্যান সঠিক ভাবে করতে পারেন। আপনার ভ্রমণ হবে আনন্দময়।
কোথায় যাবেন, কীভাবে যাবেন, কেমন খরচ হবে, কী কী নিতে হবে, কী করতে হবে- এই বিষয়গুলো নিয়ে আগেই প্ল্যান করতে হবে। আর যদি আপনি হয়ে থাকেন একজন নারী ভ্রমণকারী তাহলে কিছু বিষয় আপনাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। যেসব বিষয় মাথায় রেখেই ট্যুর প্ল্যান সাজাবেন।
১. নিজের উপর আস্থা রাখুন
নতুন পথ আর পরিবেশ নিয়ে আগে থেকেই ভয় না পেয়ে নিজের উপর আস্থা রাখুন। মনে রাখবেন, আপনিই প্রথম নারী ভ্রমণকারী নন। আপনার আগে পুরো দুনিয়া চষে ফেলেছেন বহু নারী ভ্রমণকারী। তারা যদি পারেন, আপনি কেন পারবেন না? তাই আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে, আপনি পারবেন।
২. ব্যক্তিগত অ্যালার্ম কিংবা হুইসেল সাথে রাখুন যেকোনো পরিস্থিতিতে আপনার
দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে। তাই সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় ও সাহায্য চাওয়ার জন্য হুইসেল বা অ্যালার্ম সাথে রাখুন।
৩. ট্যুর গাইডে নির্ভর না করে প্ল্যান করুন
ট্যুর গাইডে ঠিক যেভাবে একটি স্থানের কথা বলা থাকে প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট কারণে আপনার ভ্রমণকালীন সময়ে পরিবেশ ও পরিস্থিতি সেরকম নাও থাকতে পারে। আবার অনেক সময় ট্যরি গাইডে সকল তথ্য হালনাগাদ নাও থাকতে পারে। তাই এই বিষয়টি মাথায় রেখেই আপনার ট্যুর প্ল্যান সাজাতে হবে। অনেক সময় অন্য ট্যুরিস্ট বা স্থানীয় গাইডদের কাছ থেকে তথ্য নিন।
৪. সময় নিয়ে ভ্রমণ করুণ
কোথাও ঘুরতে গেলে ৭ দিনে ৭ টি জায়গায় ঘুরে ফেলতে চাই। এতো দ্রত ট্রাভেল করলে স্থানীয় মানুষ, খাদ্য, তাদের আচার-আচরণ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় না। তাই ট্যুর প্ল্যান করার সময় বিষয়টি মাথায় রাখুন। ভ্রমণে কখনো হুড়োহুড়ি করবেন না। যতোটা সম্ভব একই স্থানে দীর্ঘ সময় কাটান।
৫. সতর্ক থাকুন
যাত্রাপথে সবসময় সতর্ক থাকবেন। নতুন বন্ধু নির্বাচনে সতর্কতা অবলম্বন করবেন। আপনি যে একা ঘুরতে এসেছেন বিষয়টি কখনোই অপরিচিত কাউকে বলবেন না। যেখানেই যাবেন সেখানকার জরুরি সেবা (যেমন: পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতাল) নম্বর সংগ্রহ করে নিবেন।
৬. ব্যাকপ্যাক গুছিয়ে নিন
ব্যাকপ্যাক গোছানোর সময় মনে রাখবেন, যা ছাড়া চলা সম্ভব নয় শুধু সেসব জিনিসই আপনার ব্যাগপ্যাকে স্থান পাবে। বাড়তি কোন কিছু নিবেন না। এতে ওজন বেড়ে যাবে। যার ফলে ব্যাকপ্যাক আপনার কাছে বোঝা মনে হবে। তাই প্যান্ট, জুতা, জামা কাপড় যাই হোক-যতোটা প্রয়োজন ঠিক ততটা নিবেন।
৭. মোবাইল ফোন, চার্জার আর পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখুন
আপনার প্রয়োজনে মোবাইল ও চার্জার সাথে রাখুন। আর জরুরি পরিস্থিতিতে আপনার মোবাইলটি সচল রাখতে পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখুন। কারণ পরিবার পরিজনের সাথে যোগাযোগ কিংবা যেকোন প্রয়োজনে মোবাইল সচল থাকা খুবই দরকারী।
৮. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
প্রয়োজনীয় যে সকল কাগজপত্রের মূল কপি সাথে রাখতেই হবে শুধু সেগুলো সাথে রাখবেন। অন্য সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ছবি তুলে বা স্ক্যান করে সেগুলো অনলাইন সার্ভার যেমন ড্রপবক্স, গুগল ড্রাইভে রাখতে পারেন। এতে আপনি বিশ্বের যেকোনও প্রান্ত থাকলেও প্রয়োজনে তা ডাউনলোড করতে পারবেন। এরফলে কাগজপত্র হারিয়ে বা চুরি হয়ে গেলেও জরুরি প্রয়োজনে তা ব্যবহার করতে পারবেন।
৯. বাড়তি অর্থ হাতে রাখুন
অবশ্যই বাড়তি অর্থ হাতে রাখবেন। যদি ভ্রমণে অপ্রত্যাশিতভাবে বাড়তি অর্থর দরকার হয়ে পড়ে, তখন কোনো সমস্যার সৃষ্টি হবে না।
১0. ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিন
আপনার ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে প্রাধান্য দিন। হতে পারে, আপনি ভ্রমণে বের হবার পর আর ভালো লাগছে না। তখন ফিরে আসুন। অনিচ্ছা স্বত্বে সেখানে থাকবেন না।
সবশেষে একটি কথা মনে রাখবেন, যেখানেই ভ্রমণে যাবেন সব জায়গায় কেউ না কেউ আছে যারা আপনার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবে। নতুন পরিবেশে নতুন করে বন্ধু তৈরি হবে। নানা ধরণের মানুষের সাথে পরিচয় হবেন । আর বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাবেন।
একটি উক্তি দিয়ে শেষ করি। বিখ্যাত লেখক সেন্ট অগাস্টিন বলেছেন: পৃথিবী একটি বই, আর যারা ভ্রমণ করে না তারা বইটি পড়তে পারে না।